দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন, একই গোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত ঋণ ও পুনঃতফসিল সুযোগের অপব্যবহারে বেড়েছে খেলাপি ঋণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত অর্থনীতির সমন্বয়ক। মুদ্রানীতি, অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক তদারকির মাধ্যমে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

মামুন রশীদ, প্রথিতযশা ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকে সর্বকনিষ্ঠ প্রধান নির্বাহী ও বৈশ্বিক ব্যাংকে প্রথম স্থানীয় প্রধান নির্বাহী। প্রায় ৪০ বছর কাজ করেছেন তিনটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকে—দেশ ও বিদেশে, বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোয়। বর্তমানে আর্থিক খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্সের চেয়ারম্যান। দেশে ব্যাংক ও আর্থিক খাত—সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত অর্থনীতির সমন্বয়ক। মুদ্রানীতি, অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক তদারকির মাধ্যমে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দায়িত্ব আরো জটিল, কারণ একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো, রেমিট্যান্সের প্রবাহ সচল রাখা, আমদানি-রফতানির ভারসাম্য সামলানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সুদের হার ও ওপেন মার্কেট কার্যক্রম কার্যকর হলে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে। তবে তদারকির ক্ষেত্রে দ্রুত ও কঠোর প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক বা মালয়েশিয়ার ব্যাংক নেগারার মতো ভবিষ্যৎ নির্দেশনা দিয়ে বাজারকে প্রস্তুত করা এখন জরুরি। আমাদেরও প্রয়োজন স্বচ্ছ যোগাযোগ কৌশল, ঝুঁকিনির্ভর তদারকি এবং নিয়মিত চাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা। সর্বোপরি, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হতে হবে স্বাধীন কিন্তু জবাবদিহিমূলক, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়।

সম্প্রতি ব্যাংক খাতে যে তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এর মূল কারণ কী? এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে?

তারল্য সংকটের অন্যতম কারণ হলো আমদানি ব্যয়ের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, আমানতে প্রকৃত সুদহার কমে যাওয়ায় মানুষ বিকল্প খুঁজছে এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়ার ফলে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। খেলাপি ঋণের প্রবণতা বেড়েছে দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন, একই গোষ্ঠীর হাতে অতিরিক্ত ঋণ এবং পুনঃতফসিল সুযোগের অপব্যবহারের কারণে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে ব্যাংকের মূলধন ক্ষয়, ঋণপ্রবাহ কমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা। সমাধানের জন্য প্রয়োজন ঋণ মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর ট্রাইব্যুনাল, আদালতের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়। একই সঙ্গে তারল্য ব্যবস্থাপনায় আন্তঃব্যাংক ঋণ বাজারকে সচল রাখা এবং ধীরে ধীরে সুদের হার বাজার নির্ধারণের দিকে এগোনো জরুরি।

অর্থনীতির সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা কতটা কার্যকর? নীতি প্রণয়নে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন?

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মানে শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিনিময় হার, ঋণ বাজার, অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা এবং জনগণের প্রত্যাশা সবকিছুর ভারসাম্য রক্ষা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখনই কার্যকর হয় যখন নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। সংস্কারের মধ্যে রয়েছে সুদের হারকে বাজারভিত্তিক করা, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বচ্ছতা আনা, ব্যাংক ও অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত তদারকি চালু করা এবং ঋণের ক্ষতির জন্য আগে থেকেই যথাযথ প্রভিশন রাখা। একই সঙ্গে নিয়মিত চাপ পরীক্ষার ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করলে বাজারে আস্থা বাড়বে। প্রতিবেশী দেশগুলোয় যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা থাকলেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়, আমাদেরও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলো অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে—এ বক্তব্য কি এখনো যথাযথ? নাকি তাদের কার্যক্রমে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে?

বেসরকারি ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে ঋণ বিতরণ, রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং গ্রাহকসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংকের দুর্বল শাসন ব্যবস্থা ও সম্পর্কিত পক্ষকে অতিরিক্ত ঋণ দেয়ার প্রবণতা আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। যদিও এটি পুরো খাতের প্রতিফলন নয়, তবু কয়েকটি ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষ পুরো খাতকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছে। আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ, স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন এবং আমানতের নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত সরকারি গ্যারান্টি। ভারত বা মালয়েশিয়ার মতো দেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পেরেছে। কারণ তারা প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকসেবায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ করেছে। আমাদের দেশেও দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা উচিত।

পুঁজিবাজারের সঙ্গে ব্যাংক খাতের সম্পর্ককে কীভাবে আরো কার্যকর করা যায়? এই দুই খাত একে অপরকে কতটা শক্তিশালী করতে পারে?

বাংলাদেশে অর্থায়নের বড় অংশই ব্যাংকনির্ভর। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে শুধু ব্যাংক ঋণ দিয়ে চলা ঝুঁকিপূর্ণ। পুঁজিবাজারকে গভীর করা গেলে ব্যাংকের চাপ কমবে এবং ঝুঁকি ভাগাভাগি হবে। করপোরেট বন্ড, সুকুক, সবুজ বন্ড—এসব বাজারে চালু করা গেলে ব্যাংকগুলো প্রকল্পের প্রাথমিক অর্থায়ন করে পরে তা বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করতে পারবে। এতে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটও হালকা থাকবে। আবার তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো যদি ঋণের মান, পুনঃতফসিলীকৃত ঋণ ও সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য রাখা সংরক্ষণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করে, তবে পুঁজিবাজারও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেশী দেশে যেমন ভারত করপোরেট বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে সমন্বয় এনেছে, আমাদেরও তেমন সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।

ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ফিনটেকের প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কীভাবে এগোচ্ছে? কী ধরনের ঝুঁকি আছে?

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এগোচ্ছে। অর্থ প্রদানের জাতীয় সিস্টেম, ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তর, রিয়েল-টাইম নিষ্পত্তি, কার্ড, কিউআর কোড এবং মোবাইল আর্থিক সেবা—এসব এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শাখাহীন ব্যাংকিং মডেলের দিকে যাচ্ছে। তবে ঝুঁকিও রয়েছে। সাইবার অপরাধ, তথ্য সুরক্ষা, সিস্টেম বিঘ্ন, গ্রাহকের অজান্তে প্রতারণা এবং ভিন্ন নিয়মে একই ধরনের সেবা প্রদানের কারণে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। তাই দরকার শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি, এবং গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা। ভারত বা চীনের অভিজ্ঞতা বলে দেয়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সফল করতে হলে সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতে করপোরেট শাসনের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠায় কী পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন?

ব্যাংক খাতে শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা সবচেয়ে বড় সমস্যা। পরিচালনা পর্ষদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সম্পর্কিত পক্ষকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। পর্ষদে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ স্বাধীন পরিচালক থাকতে হবে এবং ঝুঁকি ও নিরীক্ষা কমিটির নেতৃত্ব স্বাধীন সদস্যদের হাতে থাকতে হবে। প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা যেন সরাসরি পর্ষদের কাছে প্রতিবেদন দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও জরুরি। কর্মীদের জন্য প্রণোদনা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে তা ঝুঁকি-সমন্বিত কর্মদক্ষতার সঙ্গে যুক্ত থাকে। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা থাকতে হবে। সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো দেশে যেভাবে কঠোরভাবে শাসননীতি প্রয়োগ করা হয়, আমাদের দেশেও তেমন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আমাদের বর্তমান কাঠামোয় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন?

বিদেশী বিনিয়োগকারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লভ্যাংশ সহজে দেশে ফেরত পাঠানো, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা। কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চিত মুদ্রানীতি, হঠাৎ বিধিনিষেধ এবং আদালতে মামলা নিষ্পত্তির ধীরগতি নিয়ে সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আমাদের পুঁজিবাজার যথেষ্ট গভীর নয়, ফলে অনেক সময় বিদেশী বিনিয়োগ আটকে যায়। যদি করপোরেট বন্ড বা প্রকল্পভিত্তিক ঋণের ব্যবস্থা থাকে, তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে। ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে স্থিতিশীল নীতি ও কর সুবিধা দিয়েছে, আমাদেরও সে পথে এগোতে হবে। ব্যাংকগুলো যদি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীর জন্য বিশেষ ডেস্ক চালু করে এবং বৈদেশিক মুদ্রায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ দেয়, তবে বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয়হীনতার প্রভাব ব্যাংক খাতে কতটা পড়ে বলে আপনি মনে করেন?

যখন সরকারের রাজস্ব নীতি ঘাটতিমুখী হয় এবং সরকারি ঋণের চাহিদা বেড়ে যায়, তখন ব্যাংকগুলো নিরাপদ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে, ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যায়। আবার মুদ্রানীতি শিথিল হলেও যদি রাজস্ব শৃঙ্খলা না থাকে, তবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে জমার সুদ প্রকৃত অর্থে নেগেটিভ হয়ে যায় এবং মানুষ বিকল্প খোঁজে। এ টানাপড়েনে সুদের হার স্বাভাবিক সংকেত দেয়ার ক্ষমতা হারায়। সমাধানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। যেমন প্রতিবেশী ভারতে যৌথ ঋণ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে বাজারে পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানো হয়। আমাদেরও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং ডেটা ভাগাভাগির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে কোন বিষয়গুলোয় সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে বলে আপনি মনে করেন?

টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ঋণের গুণমান বৃদ্ধি। সম্পর্কনির্ভর ঋণ বিতরণের পরিবর্তে তথ্যনির্ভর ঋণ মূল্যায়ন চালু করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পেনশন ও বীমা তহবিলকে কাজে লাগিয়ে বন্ড বাজার শক্তিশালী করতে হবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরো গভীর করতে হবে, যাতে গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা, কৃষি ভ্যালু চেইন ও নতুন উদ্যোগপতিরা সহজে ঋণ পান। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় সবুজ ঋণ ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে সাইবার ঝুঁকি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ থেকে সুরক্ষিত থাকার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যারা রফতানিমুখী খাতে ঋণ দিয়েছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। বাংলাদেশেরও সেই পথেই হাঁটতে হবে।

আরও